ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে কাতারের শর্ত

0

যদি ইসরায়েল আরবের শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার প্রতিশ্রুতি বজায় রাখে সেক্ষেত্রে কাতার ইসলায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান এলি কোহেনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শনিবার কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপনে কাতারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

শনিবার কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক ঘোষণায় বলেন, ‘ইসরায়েল যদি আরবের শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে তার প্রতিশ্রুত ভূমিকা পালন করে, অর্থাৎ দখলদারিত্ব বন্ধ করে, পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং বন্দি ও শরনার্থী ফিলিস্তিনীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেয়- সেক্ষেত্রে আমরাও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত।”

রাশিয়াভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আরটি অ্যারাবিকের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে মিডলইস্ট মনিটর।

বুধবার ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান এলি কোহেন দেশটির টিভি চ্যানেল আইটোয়েন্টিফোর নিউজে এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সদ্য সমাপ্ত উপসাগরীয় সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

সাক্ষাৎকারে এলি কোহেন বলেন, ‘সম্মেলনে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের বিষয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অবশ্যই সাধুবাদ পাবে। আমরা আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে ইসরায়েল এবং কাতারের মধ্যেও একটি বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনে এই চুক্তি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।’

এলি কোহেনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এই বক্তব্য দিয়েছেন আল থানি।

এর আগে ২০১৭ সালের জুন মাসে ইরানের সহযোগিতায় সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলে কাতারের বিরুদ্ধে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসর। যদিও শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল কাতার। তবে দ্বন্দ্ব মেটাতে কাতার এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার কাজ করছিল কুয়েত।

এরপরে চলতি বছর ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উপসাগরীয় সম্মেলনে অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে কাতারের সঙ্গে ফের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো।

এদিকে আরব বিশ্বে বহুবছর ‘একঘরে’ হয়ে থাকার পর সম্প্রতি আরব এবং উপসাগরীয় ব্লকের ৪ টি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সমর্থ হয়েছে ইসরায়েল।

এই দেশগুলো হলো মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন।

এনএ/রাতদিন