শেকড়ের খবর সবার আগে

কাশফুলের শুভ্রতায় সেজেছে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল, ‍হাতছানি দিচ্ছে আর্থিক উন্নয়ন

হেমন্তের এই ঊষালগ্নে নদ-নদী ও চরাঞ্চলে বিস্তীর্ণ কাশবন হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের বিনোদন স্থল। করোনাকালে বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকলেও এই মুহূর্তে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন নদ-নদীর তীরে মাঠজুড়ে সাদা কাশফুলের সমাহার। নয়ন জুড়ানো কাশফুলের শুভ্রতায় বিমোহিত প্রকৃতিপ্রেমীরা উচ্ছাসে যে ভাসছেন সাদার শুভ্রতায়

স্থানীয়রা জানান, এই কাশবন শুধু শরতের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, চরবাসীরা এই কাশের বাগান গবাদি পশুদের চারণভূমি হিসেবে ব্যবহার করেন। আবার কাশ আঁটি বেধে ভালো দামে বিক্রি করে নিজেদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন অনেকেই। গবেষকরা বলছেন, কাশ গাছের অনেক ওষুধি গুন রয়েছে। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে লেখার কাগজও।

সরেজমিনে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঝুনকার চর, উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগার চর, বেগমগন্জের মশালের চরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, আকাশে শরতের সাদা মেঘ, জমিনে কাশফুলের বিছানা। বাতাসে সাদা ফুলের মিশ্রন। এ যেন সাদায় সাদায় মিতালী। এই দৃশ্য এখন কুড়িগ্রামের নদ-নদী অববাহিকার সাড়ে চার শতাধিক চরাঞ্চলের। প্রকৃতির এই অপরুপ সৌন্দর্যে যে কারো মন হারিয়ে যেতে পারে।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের ঝুনকার চরের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই কাশবন চরাঞ্চলের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি চরের মানুষের জীবন-জীবিকার মাধ্যমও হয়ে উঠেছে। গাছ থেকে কাশফুল পড়ে গেলে গাছ কেটে আঁটি বেধে ১ হাজার আঁটি ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

উলিপুর উপজেলার বেগমগন্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, আমার ইউনিয়ন পুরোটাই ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার চরাঞ্চল। এখানে নদের দুই পাড়ে জেগে উঠা নতুন সব চরই এখন কাশবন। অনেক আগে চরবাসীরা এই কাশবন শুধু গবাদি পশুর চারণনভূমি হিসেবে ব্যবহার হতো। কিন্তু বর্তমানে এই চাহিদা বাড়ার জেলার বাইরে থেকে ক্রেতারা এসে কিনে নিয়ে যায়। এতে করে চরবাসীরা কিছুটা হলেও আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা ফিরে পায়।

সদর উপজেলার ধরলা নদীর অববাহিকার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব চর এলাকার মজিবর রহমান জানান, শুধু সৌন্দর্য আর অর্থের উৎস নয়, বন্যার মতো দুর্যোগের সময় গো-খাদ্যেরও অভাব মেটাতে ভূমিকা রাখে এই কাশবন।

একই চরের তালুকদার বলেন, এই কাশের খড় পানের বরে ব্যবহারের জন্য বেশ উপযোগী। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ এসে প্রতি হাজার কাশের আঁটি ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে যায়।

শহর থেকে কাশবনের সৌন্দর্য দেখতে আসা জুয়েল রানা বলেন, আমি প্রতি বছরই এই সময়টাতে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে বেড়াই।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও উপাধ্যক্ষ মীর্জা নাসির উদ্দিন বলেন, এখানে রয়েছে সাড়ে ৪ শতাধিক চর। এই চরগুলোতে অনেক কাশবন রয়েছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুলের মধ্যে কাশফুল অন্যতম।

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন