https://ratdin.news
শেকড়ের খবর সবার আগে...

তরকারিতে বেশি ঝাল, ক্ষুদ্ধ স্বামী হত্যা করেছে নববধূকে

ফোনে অতিরিক্ত কথা বলা এবং রান্নায় ঝাল বেশি দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিয়ের মাত্র ১২ দিনের মাথায় বগুড়ায় এক নববধূকে গলা কেটে হত্যা করেছেন তার স্বামী। নিহত নববধূর নাম নুরজাহান বিবি ।

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালা দীঘিরপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার আগে ওই গৃহবধূকে ঘুমের ট্যাবলেট দিয়ে ইনজেকশন পুশ ও হাত বাঁধা হয় বলে জানায় পুলিশ।

নিহত নুরজাহান বিবি শিবগঞ্জ উপজেলার দাইমুল্যা গ্রামের মৃত সাবাশ শাকিদারের মেয়ে।

আজ বুধবার সকালে ঘাতক স্বামী শাহীন আলমকে (৩২) বগুড়া সদর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর বাসার পাশে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়।

শাহীন আলম বগুড়া সদরের কদিমপাড়া গ্রামের দৌলতুজ্জামানের ছেলে। তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের কেবিন ওয়ার্ডবয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বামী শাহীন আলম বলেন, বনিবনা না হওয়া, ফোনে অতিরিক্ত কথা বলা এবং রান্নায় ঝাল বেশি দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার নববধূকে তিনি হত্যা করেছেন।

বগুড়ার শাজাহানপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, নুরজাহান বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে রোগী নিয়ে এলে তার সঙ্গে ওয়ার্ডবয় শাহীনের পরিচয় হয়। এর পর দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত ২২ আগস্ট তারা বিয়ে করেন। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে।

এর পর বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালার দীঘিরপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে প্রতিবেশীরা তালা দেয়া ঘরের বিছানায় নুরজাহানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশ দরজা ভেঙে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, বুধবার সকালে বগুড়া সদরের একটি স্থান থেকে নুরজাহানের স্বামী হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় শাহীন আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বনিবনা না হওয়ায় স্ত্রীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার আসর নামাজের পর সে প্রথমে কোমলপানীয়র মধ্যে ১০টি ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ায়। কিছুটা অচেতন হলে হাত বেঁধে তিনটি ঘুমের ইঞ্জেকশন পুশ করেন।

নুরজাহান পুরো অচেতন হয়ে পড়লে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার পর ঘরের দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যান। তার স্বীকারোক্তিতে ভাড়া বাসার পাশ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।

শাজাহানপুর থানার ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ আরও জানান, এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এইচএ/রাতদিন

ভালো লাগলে লাইক দিন, শেয়ার করুন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে