রংপুরে রাস্তা ছেড়ে দোকানে বাস, মারা গেল দিনমজুর

0

রংপুরের তারাগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় হাজাজ মিয়া (৪২) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের যাত্রীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং রংপুুুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (০২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হাজাজ মিয়া একই উপজেলার ঝাকুয়াপাড়ার মৃত সহির উদ্দিনের ছেলে। সন্ধ্যায় বাজার করতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন তিনি।

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে জানান, বাসটি থ্রি-হুইলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি দোকানে ঢুকে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বাসচালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ঠাকুরগাঁওগামী এইচএপ্লাস পরিবহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে একটি থ্রি-হুইলারকে ওভারটেক করতে গিয়ে ধাক্কা দেয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে একটি দোকানে ঢুকে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দিনমজুর হাজাজ নিহত হন। বাসের কয়েকজন যাত্রীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

আহতরা হলেন লালমনিরহাট কালিগঞ্জের জামাল (৩৫), তারাগঞ্জ চৌপথি এলাকার ফুয়াদ (৮৪), হোসেন আলী (৪০), ফাতেমা (৩৫), একই উপজেলার বেলতলী এলাকার তমা (১৯), কেল্লাবাড়ি বালাপাড়ার তারা বানু (৫৫), ঘনিয়াপুরের বাবু (৪০), সৈয়দপুর ওয়াবদা মোড়ের সেকেন্দার (৩০)। আহত আরও দুই-তিনজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-বি) নূর ই জান্নাত সিফাত বলেন, ঘটনাস্থলে হাজাজ নামে একজন নিহত হন। আহত হয়েছেন ১০ জন। ঘটনার পর স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়।

পরে উপজেলা চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক আহম্মদ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। রাত ৯টার পর বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক থেকে সরে গেলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

উপজেলা চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দুর্ঘটনা রোধে এই স্থানে সড়ক বিভাজন ও স্পিডব্রেকার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই আশ্বাস পেয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

এনএ/রাতদিন

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন