https://ratdin.news
শেকড়ের খবর সবার আগে...

সদা হাস্যোজ্জ্বল শুভকে চোখের পানিতে বিদায়

দূর থেকে শোনা যাচ্ছে সাইরেন। বৃষ্টি পড়ছে। দোকানপাট তেমন একটা খোলা নেই। ঘড়িতে তখন সময় প্রায় সাড়ে দশটা। লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসসড়কের তুষভান্ডার বাজারের ক্যাপ্টেন মোড়। উৎসুক অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন সেখানে। হাতে ‘বিচার চাই’ ব্যানার। সেই সাইরেনের সাথে যোগ হয় গাড়ির হেডলাইট। অর্থাৎ জাকারিয়া হক বিন শুভ এসে পৌঁছেছে। আজ আর হাসোজ্জ্বল নয়, নিথর হয়ে। মরদেহবাহি গাড়িতে চড়ে।

সেই গাড়ি পৌঁছানোর পর অনেকে ধরে রাখতে পারেননি চোখের পানি। ভেজা চোখেই দিতে শুরু করেন শ্লোগান, ‘শুভ হত্যার বিচার চাই’। এরপর মিছিল এগিয়ে যায় বাজারের পশ্চিম মাথায়। সেখানে পথসভা শেষে মরদেহবাহি গাড়িটি চলে যায় উত্তর ঘণেশ্যাম(এমসি) মোড়ের বাড়িতে।  

সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন শুভর বৃদ্ধ মা, বোন, স্বজনসহ উপস্থিত হাজারো মানুষ। গাড়ির ফাঁক গলিয়ে শুভর নিথর মুখটি একনজর দেখে কেউই থামাতে পারেননি কান্না।

এদিকে ‍তুষভান্ডার জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামের সামনে নামাজে জানাজা শেষে রাত ১২টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় শুভর মরদেহ। জানাজা ও দাফনেও ছিল কান্না। ন্যায় বিচারের আর্তি। বন্ধু, স্বজন সকলের।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ওয়ালটনের মোবাইল সেক্টরের টেরিটরি সেলস ম্যানেজারের জাকারিয়া বিন হক শুভর মৃত্যুতে তার বড়বোন হাসিনা নাজনিন বিনতে হক শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে সকালে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

মামলায় শুভর স্ত্রী শেহনীলা নাজ ও শাশুড়ি আছমা বেগমসহ অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। শুভর চাচাত বোন ও রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) উলফৎ আরা লিনা রাতদিননিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শেহনীলা নাজ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আর তার মা ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ও কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল বলে জানা গেছে।

এদিকে শুভর মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে আজ শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর বিকাল তিনটায় তুষভান্ডারে মানববন্ধনের আয়োজন করেছে এলাকার লোকজন।

গত বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের বাসা থেকে শুভর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্ত ও বাবর রোডে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শুভ সিগারেট খাওয়া নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে ফ্যানের সাথে ওড়না ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে তার স্ত্রী ও শাশুড়ি দাবি করলেও তার মরদেহ বেডরুমের মেঝেতে পড়ে ছিল। আর বন্ধু-স্বজনরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবি করে আসছেন শুরু থেকে।

এবি/রাতদিন

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে

Follow by Email