https://ratdin.news
শেকড়ের খবর সবার আগে...

স্ত্রী মামলা করেছে পুলিশ কনস্টবলের বিরুদ্ধে

জামিনে মুক্তি পেয়ে স্ত্রীর গলায় ছুরি লাগিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও নির্যাতনের অভিযোগে আল আমিন (৩০) নামে এক পুলিশ কনস্টবলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের আদিতমারী থানায় মামলাটি দায়ের করেন তার স্ত্রী আরজু বেগম।

এর আগে বুধবার,৩০ অক্টোবর পরকীয়া প্রেমিকার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় পুলিশ কনস্টবল আল আমিনকে আটক করে সদর থানা পুলিশ। পর দিন বৃহস্পতিবার,৩১ অক্টোবর পরকীয়া প্রেমিকার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠায় সদর থানা পুলিশ।

পুলিশ কনস্টবল আল আমিন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর

গ্রামের হানিফ ইসলামের ছেলে। তিনি রংপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাব জজ ড. আব্দুল মজিদের দেহরক্ষী।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, পুলিশ কনস্টবল আল আমিন (ক. নং ১৪১২) গত ২০১২ সালে আদিতমারী উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবদা গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে আরজু বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। আল আমিন লালমনিরহাট শহরের বসুন্ধরা এলাকায় এক বিজিবি সদস্যের স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলে । পুলিশ কনস্টবলের প্রেমে পরে বিজিবি সদস্য-স্বামীকে তালাক দেন। এরপর পরকীয়া প্রেমিকাকে বিয়ে করতেও টালবাহনা করেন তিনি।

গত ২৯ অক্টোবর ছুটিতে বাড়ি এসে পরকীয়া প্রেমিকার বাড়িতে যান পুলিশ কনস্টবল আল আমিন। ওই দিন রাতে স্থানীয়রা প্রেমিকার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় তাকে আটক করে লালমনিরহাট সদর থানায় সোপর্দ করেন। পরদিন পরকীয়া প্রেমিকার দায়ের করা মামলায়(নং ৬২) তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে সদর থানা পুলিশ জেল হাজতে পাঠায়।

গত ২১ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাবার বাড়িতে থাকা স্ত্রী আরজুকে পাশের একটি মাদরাসায় কৌশলে ডেকে নিয়ে গলায় ছুরি ধরে জোরপুর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। এসময় আল আমিন ও তার সঙ্গীয়দের আঘাতে কানে মারাত্বক আঘাত পান স্ত্রী আরজু বেগম। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় স্ত্রী আরজু বেগম স্বামী কনস্টবল আল আমিনসহ চার জনের বিরুদ্ধে গত ২৮ নভেম্বর আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বও সন্ধ্যায় অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

মামলার বাদী আরজু বেগম রাতদিন নিউজকে বলেন, মিমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর চায় আল আমিন। না দিলে লাঠি দিয়ে মারপিট করে গলায় ছুরি ধরে স্বাক্ষর নেয়। এখন থানায় অভিযোগ দেয়ায় পুরো পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকী দিচ্ছে আল আমিন। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাই মামলা নিতেও ইতস্ত করে থানা। এখন পুরো পরিবার আতংকিত হয়ে পড়েছেন তারা।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলা নেয়া হয়েছে। তদন্ত করে গ্রেফতার করার মত হলে অবশ্যই আল আমিনকে গ্রেফতার করা হবে।

এনএ/রাতদিন

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে