https://ratdin.news
শেকড়ের খবর সবার আগে...

হাতীবান্ধায় কাঁঠালের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ, পিটুনির শিকার দম্পতি হাসপাতালে

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় এক দম্পতিকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাঁঠাল বিক্রি করতে নিষেধ করায় তারা এই বেধড়ক পিটুনির শিকার হন। বর্তমানে আহত এই দম্পতির একজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও অপরজন হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

গত রবিবার ১৭ মে রাতে এ ঘটনায় ১১ জনকে আসামী করে আহতের ছেলে তাইজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে ১৬ মে বিকেলে উপজেলার গেন্দুকুড়ি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। এদিকে ঘটনার পর দিন ১৭ মে অভিযুক্ত সাহাজ উদ্দিন পাল্টা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বলে জানান তার ছেলে হাসানুর রহমান।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার গেন্দুকুড়ি গ্রামের মৃত নফেল উদ্দিনেরে ছেলে সাহাজ উদ্দিন(৫০), স্ত্রী হাছিনা বেগম(৪৫), ছেলে হাসানুর(২৮), হাবিবুর(২২), একই গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী হালিমা বেগম(৫০), ছেলে শহিদুল(২৭), ছাদেকুল(৩২) ও  গোলাপ হোসেনের ছেলে তুহিন(৩২), তুহিনের স্ত্রী মেরিনা বেগম(২৫), মৃত জম্বু শেখের ছেলে খয়বর(৩৮), খয়বরের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৩০)।

আহতরা হলেন, উপজেলার গেন্দুকুড়ি এলাকার ও মামলার বাদী তাইজুল ইসলামের বাবা নাজির হোসেন(৫৫), মা হামিদা আক্তার দিপ্তী (৫০) ও তার স্ত্রী বিউটি বেগম।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নাজির হোসেনের মালিকাধীন জমিতে থাকা কাঁঠাল গাছের কাঁঠাল গুলো সাহাজ উদ্দিন নিজের দাবী করে কাউকে না জানিয়ে বিক্রির চেষ্টা করেন। বিষয়টি নাজির হোসেনের চোখে পড়লে সাহাজকে কাঁঠাল বিক্রি করতে বাধা দেয়। এতে সাহাজ ও নাজিরের মাঝে বাকবিতন্ডা শুরু হয়।

এ সময় তাদের থামাতে নাজিরের স্ত্রী ও পুত্র বধূ সেখানে আসে। এর এক পর্যায়ে সাহাজের বাড়ির লোকজন বাশের লাঠি, রড, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। নাজির ও হামিদাকে বেধড়ক পেটালে এতে হামিদা বেগমের মাথা ফেটে যায়। এছাড়া তিনজনের শরীরেই ভীষন ভাবে জখম হয়। এ সময় তাদের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে ওই তিনজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাহাজ উদ্দিনের ছেলে হাসানুরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ওই কাঁঠাল গাছটি আমাদের জমিতে। তাই ওই গাছের কাঁঠাল আমরা বিক্রি করতে চাইলে ওরা নিজেদের দাবি করে বিক্রিতে বাধা দেয়। তাদের উপর কোন হামলা বা মারধর করা হয়নি। উল্টো তারাই আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় আমার বাবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন বলেও জানান তিনি।  

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, ওই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  

জেএম/রাতদিন

ভালো লাগলে লাইক দিন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে

error

নিয়মিত সংবাদের জন্য সাবস্ক্রাইব করুন