হাতীবান্ধায় চাঁদার জন্য জেলেদের মাছ নিয়ে যেতেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা!

0

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে জেলেদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা হিসাবে জোর করে মাছ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ মাছের পাশাপাশি টাকাও দাবি করেন ওই নেতা।  এর প্রতিবাদ করলে মতিয়ার রহমান (৪৮) নামে এক ইউপি সদস্যকে মারধর করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

গতকাল সোমবার দুপুরে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। 

অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান জিয়া দোয়ানী পিত্তিফাটা এলাকার প্রয়াত লিয়াকত আলীর ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের দোয়ানী ইউনিটের সাবেক  সভাপতি। ।

অভিযোগ রয়েছে, নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের সাথে জড়িত জিয়া। এছাড়া চাঁদা না পেলে জেলেদের মাছ জোর করে বিনামূল্যে নিয়ে যান তিনি।

এ ঘটনায় গতকাল সোমবার, ১৯ এপ্রিল রাতে ভুক্তভোগী জেলে রহমত আলী বাদী হয়ে জিয়াসহ দুজনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় ২২ জেলেকে নিয়ে গঠিত হয় দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি। সেই সমিতির সভাপতি রহমত আলীর নেতৃত্বে ব্যারাজ এলাকায় নদী থেকে জাল দিয়ে মাছ ধরে বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন জেলেরা। প্রায় বছর দুয়েক আগ থেকে চাঁদার জন্য জেলেদের মাছ ধরতে বাধা দিয়ে আসছিলেন জিয়া ও তার লোকজন। বেশ কয়েকবার চাঁদার টাকা না পেয়ে প্রতিবার ২-৩ কেজি বৈরালী মাছ নিয়ে চলে যায় তারা।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার জেলেরা মাছ ধরার সময়  জিয়াসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে মাছ ধরতে বাধা দিয়ে ১৯ হাজার টাকা দাবি করে। এতে রহমতসহ অন্যরা চাঁদা দিকে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এতে জিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ৮০০ টাকার  মাছ জোর পূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এতে বাধা দেন রহমত। ফলে জিয়া তাকে মারধর শুরু করে। ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান ছুটে এসে রহমতকে রক্ষা করে জিয়াকে চলে যেতে বলে। কিন্ত জিয়া চলে না গিয়ে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি সদস্যের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘আমি জেলেদের কাছে কোনো চাঁদা দাবী করিনি। এটা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ’।

আহত ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান বলেন, ‘জিয়া প্রায় সময় জেলেদের উপর অবিচার করে। জেলেরা অনেক কষ্টে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। টাকা ছাড়া মাছ নিয়ে যায়। বাধা দেয়ায় রহমতকে মারধর করে। আমিও বাধা দিতে গিয়ে জিয়ার মারধরের শিকার হই’।

হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফাহিম শাহরিয়ার জিহান বলেন, ‘জিয়া বর্তমান ছাত্রলীগের কেউ না। দোয়ানী শাখা ছাত্রলীগ কমিটির সাবেক সভাপতি’।

হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলম বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

এবি/রাতদিন

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন