হাত অচল, মুখ দিয়ে লিখেই মাস্টার্সে পড়ছেন পাটগ্রামের ‘অদম্য’ ফিরোজ

0

ফেরদৌস আলম ফিরোজ। কৃষক ঘরের সন্তান। জন্ম লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তে ধরলা তীরবর্তী কাউয়ামারী গ্রামে। জন্ম থেকেই তার হাত দুটো অচল, তবে পড়াশুনার প্রতি অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মেনেছে তার এই শারীরিক প্রতিবন্ধিতা। হাত অচল থাকলেও তিনি মুখ দিয়ে লিখে চালিয়ে যাচ্ছেন পড়াশুনা। বর্তমানে তিনি মাস্টার্সে পড়ছেন।

ছোট বেলায় পা দিয়ে লিখে শিক্ষাজীবনের শুরু। আর্থিক কষ্টে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হলেও কৃষক বাবা তাকে সহায়তা করেছেন। ফিরোজও চালিয়ে যাচ্ছেন তার জীবন সংগ্রাম।

চার ভাইয়ের মধ্যে বড় ফিরোজ। বাকি তিন ভাই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করেন। বাবা শাহাব উদ্দিন কৃষক আর মা ফিরোজা বেগম গৃহিনী। পাঁচ বিঘা আবাদি জমির উপর নির্ভর করে টেনে-হিচড়ে চলে সংসার। দারিদ্র যেনে এই পরিবারের নিত্য সঙ্গী। শত দারিদ্রের মাঝেও প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে এগিয়ে যাচ্ছেন ফিরোজ।

তার বাবা জানান, মনের প্রবল ইচ্ছা আর সংগ্রামকে সঙ্গী করে মুখ দিয়ে লিখে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে ফিরোজ।

তিনি জানান, ফিরোজ ২০১৩ সালে এসএসসি পাস করেন। ২০১৫ সালে পাস করেন এইচএসসি। ২০১৯ সালে পাস করেন অনার্স। এখন পড়ছেন মাস্টার্সে।

শারীরিক প্রতিবন্ধিতার জন্য কখনোই মন খারাপ করেন না ফিরোজ- এমনটা বলছিলেন তার বাবা।

তিনি জানালেন, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পা দিয়ে লিখে পড়াশুনা করেছে ফিরোজ। এরপর মুখ দিয়ে লেখার চর্চা শুরু করে। মুখে কলম আটকিয়ে অচল হাত দিয়ে কোনরকমে ব্যালেন্স করে লিখতে হয় তাকে। এতে খুব কষ্ট হয়।

ফিরোজের সহপাঠী মশিউর রহমান বলেন, ফিরোজ মুখ দিয়ে লিখলেও তার লেখা অনেক সুন্দর। মুখ দিয়ে লিখে সে অনার্স পাস করে সমাজের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়েছে। তার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে। ‘

পাটগ্রাম আদর্শ কলেজের প্রভাষক ফজলুল হক বলেন, ফিরোজ প্রতিবন্ধী কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থী। সে সদালাপি নম্র ও ভদ্র। ফিরোজের সংগ্রাম আমাদেরকেও অনুপ্রেরণা যোগায় বলেও তিনি জানান।

ফিরোজের ছোট ভাই অনার্সের শিক্ষার্থী খুরশিদ ওয়াহিদ পরশ বলেন, ভাইয়া প্রতিবন্ধী হয়েও সবসময় আমাদের প্রতি খেয়াল রাখেন। আমাদের পড়াশুনার খোঁজখবর নেন। আমিও তার সংগ্রাম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

ফিরোজের মা ফিরোজা বেগম বলছিলেন, ফিরোজ নিজে গোসল করতে পারে না। খেতে পারে না। কাপড় পড়তে পারে না। তিনি সবকিছু করে দেন।

জীবন সংগ্রামী ফিরোজ জানালেন, প্রথমদিকে মুখ দিয়ে লিখতে আমার খুব কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু যেদিন পরীক্ষায় পাশ করছি, সেদিন থেকে আরো সাহস পেয়েছি। স্যারেরা আমাকে প্রচুর ভালোবাসেন। কষ্টকে মানিয়ে নিয়েছি স্বানন্দে।

স্কুল ও কলেজে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহযোগিতা ও সহানুভুতির কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করলেন ফিরোজ।

পড়াশুনা শেষে জীবন যুদ্ধে টিকে থাকতে প্রয়োজন একটি চাকুরী। এজন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহানুভুতি প্রত্যাশা করেন অদম্য সংগ্রামী ফিরোজ।

জেএম/রাতদিন

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন
মতামত দিন