আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

নারীর ভূমিকা সমাজ-সভ্যতার অগ্রযাত্রার ইতিহাসে পুরুষের সমান্তরাল। তাই সময় এখন সবাই মিলে নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ার। আজ রোববার, ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে দিবসটি।

নারীদের ওপর হওয়া বৈষম্য, নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাদের জাগ্রত করাই নারী দিবস পালনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য  ‘প্রজন্ম হোক সমতার, সব নারীর অধিকার’।

নারী দিবসের রঙ নির্ধারিত হয়েছে বেগুনি এবং সাদা, যা নারীর প্রতীক। বেগুনি রঙ নির্দেশ করে সুবিচার ও মর্যাদা, যা দৃঢ়ভাবে নারীর সমতায়ন।

নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ মানবাধিকার ও নারী সংগঠনগুলো দিবসটি উদযাপনে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

তবে নারী আন্দোলনের নেত্রীরা বলছেন, বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত যে নারীরা খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন, তাদের জন্য নারী দিবস কোনো বার্তা বয়ে আনতে পারছে না। এদেশে এখনো অনেক জায়গায় জন্মের আগেই কন্যাশিশুর ভ্রূণ হত্যা করা হয়। মেয়ে জন্ম দেওয়ার ‘অপরাধে’ মাকে তালাক দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এমনকি কন্যাশিশুকে মেরে ফেলাও হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

নারী দিবস পালনের পটভূমি হচ্ছে এ দিনে আমেরিকায় ঘটে যাওয়া এক আন্দোলন। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কের সুতা কারখানায় কর্মরত নারীশ্রমিকরা সড়কে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন। সেদিন বেতন বৈষম্য, অনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা আর কাজের বৈরী পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নারীরা একজোট হলে তাদের ওপর প্রশাসন ও কারখানা মালিকরা দমন-পীড়ন চালায়।

প্রায় অর্ধশতাব্দী পর ১৯০৮ সালে জার্মানিতে এ দিনটি স্মরণে প্রথম নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে প্রায় একশ’ নারী প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছিলেন। এ সম্মেলনেই প্রথমবারের মতো প্রতি বছরের ৮ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সে প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস পালিত হয়। ১৯৭৫ সালে দিবসটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ১৯৭১ সাল থেকেই ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

এবি/রাতদিন