দিনাজপুরে গণধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী, প্রেমের কারণে লাশ কিশোরী

দিনাজপুর সদর উপজেলায় বন্ধুর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সদর উপজেলার উমরপাইল বালুপাড়া এলাকার আমজাদ আলীর ছেলে বুলবুল (১৮), সুইপার কলোনি এলাকার রংবাজ কুমারের ছেলে শান্তু কুমার (২০) ও মিশনরোড এলাকার ওবায়দুল সরকারের ছেলে পাতা সরকার (১৮)।

জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট বিকেলে স্কুলছাত্রীকে নিয়ে উপজেলার কাঁউগা এলাকায় ঘুরতে যান শান্তু কুমার। এ সময় তারা একটি বাড়ির খোঁজ করলে বুলবুল একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তিনজন মিলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় অপহরণের পর দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন স্কুলছাত্রীর মা। রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) বজলুর রশিদ বলেন, ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন আদালত।

এদিকে প্রেমের টানে রাতের আঁধারে ঘর ছেড়ে লাশ হলো দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় লতা রায় (১৭) নামে এক কিশোরী। সে উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের জোয়ার গ্রামের মৃত ধনেশ্বর চন্দ্র বর্মনের মেয়ে।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট দিবাগত রাত ২টার দিকে পার্শ্ববর্তী ভাবকী ইউনিয়নের আগ্রা গ্রামের শেখ পাড়ায় রাস্তার পাশের লিচু গাছে লতার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। আজ শুক্রবার সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার মৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পাস করেছে লতা রায়। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়ে প্রতিবেশী এক কাকার বাড়িতে আশ্রিত ছিল সে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে প্রেমের টানে স্কুল ব্যাগে মুঠোফোন, টাকা, কাপড়-চোপড় ও অলংকার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় লতা। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে পরিবারের লোকজন তাকে শয়ন কক্ষে না পেয়ে চারদিকে খোঁজার পর রাত প্রায় ২টার দিকে রাস্তার পাশে লিচু গাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। পরে বিষয়টি থানা ও ইউনিয়ন পরিষদে জানানো হলে শুক্রবার সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় খানসামা থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে।

খানসামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কামাল হোসেন জানান, মেয়েটির স্কুল ব্যাগে মুঠোফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলামত পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এবি/রাতদিন