পাটগ্রামে মাদ্রাসা শিক্ষকের মাথা ফাটালো পুলিশ, বিচার দাবীতে মানববন্ধন

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে তুচ্ছ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। মাথায় আঘাত পেয়ে ওই শিক্ষক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করে ওই পুলিশ সদস্যের শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসি।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার বেংকান্দা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল কামরুজ্জামান রাশেদ ছুটিতে বাড়িতে আসে। মঙ্গলবার, ২১ মে রাতে তার বাড়ির লিচু গাছ থেকে কে বা কারা লিচু চুরি করে। এ ঘটনায় সন্দেহের বশে শুক্রবার, ২৪ মে সকালে বেংকান্দা কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠ ও মাদ্রাসার হাফেজ শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম রশিদুল ইসলামকে পুলিশ সদস্য (কনস্টেবল) কামরুজ্জামান রাশেদ রাস্তায় অতর্কিতভাবে মারপিট করে। পরে স্থানীয়রা হাফেজ শিক্ষককে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা মেডিক্যালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার, ২৫ মে সকাল ১১ টায় কাউয়ামারী- পাটগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে এলাকাবাসি, মাদ্রাসা কমিটি ও মাদ্রাসার ছাত্ররা ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। মানববন্ধনে ওই পুলিশ কনস্টেবলের উপযুক্ত শাস্তি দাবী তোলা হয়।

বেংকান্দা কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠ ও মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও পাটগ্রাম ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মাদ্রাসা কমিটির সম্পাদক নুর ইসলাম বলেন, ‘নির্মমভাবে হাফেজ শিক্ষককে মারপিট করা হয়েছে। আমরা দ্রুত ওই পুলিশ সদস্যের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে আহত মাদ্রাসা শিক্ষক রশিদুল ইসলাম জানান, ‘আমি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অতর্কিতভাবে আমাকে বেধড়ক মারপিট করে পুলিশ সদস্য কামরুজ্জামান রাশেদ।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ কনস্টেবল কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, ‘তৃতীয়পক্ষ একটি গ্রুপ আমাকে ফাঁসানোর জন্য এসব করছে।’

পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেল আহমেদ আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান , ‘রশিদুল ইসলাম শুক্রবার সকালে ভর্তি হয়েছে। তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’

বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাটগ্রাম থানা অফিসার ইনচার্জ মনসুর আলী সরকার।

জেএম/রাতদিন