বাবার পিঠে চড়ে আর স্কুল যাবে না মিলন, এখন যাবে হুইলচেয়ারে

নীলফামারীর সৈয়দপুরে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক শিশু শিক্ষার্থীকে একটি হুইল চেয়ার দেয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ্যমপ্যাথির উদ্যোগে ওই শিক্ষার্থীকে এই উপহার দেয়া হয়।

আজ মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ সকালে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুর গ্রামে সংস্থার প্রধান কার্যালয় চত্বরে ওই হুইল চেয়ারটি হস্তান্তর করা হয়।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ্যমপ্যাথি’র সভাপতি ও সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন লুতু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ওই শিশু শিক্ষার্থীর হাতে হুইল চেয়ারটি তুলে দেন।

এ সময় সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. শফিকুল আলম, শিশু স্বর্গ বিদ্যানিকেতনের সহকারি শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ্ -আল মামুন সোহাগ, সোহাগ রানা দিপু, উন্নয়ন কর্মী মো. তারিকুল ইসলাম তারিকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিলন ইসলাম (১৩) সৈয়দপুরের পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের ফেরুশা ডাঙ্গাপাড়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের মো. দুলাল ও মোছা. লিলুফা দম্পতির সন্তান। জন্মগতভাবে সে শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাঁরপরও তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেন তাঁর বাবা-মা।

বাড়ির পাশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছে সে। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজে নিজে স্কুলে যাওয়া-আসা করতে পারছিল না। আর তাকে স্কুলে যাতায়াতের জন্য একটি হুইল চেয়ার কিনে দেবে এমন আর্থিক সামর্থ্য নেই তাঁর অভাবী পরিবারটির।

এ অবস্থায় তাঁর বাবা-মা তাকে কোলে পিঠে করে বিদ্যালয়ে আনা নেওয়া করছিলেন। আর তাঁর এ অসহায়ত্বের বিষয় লোক মারফত অবগত হন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুর গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ্যমপ্যাথির পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম।

পরবর্তী সময়ে তিনি সংস্থার পক্ষ থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থী মিলনের জন্য একটি নতুন হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করেন।

জেএম/রাতদিন

মতামত দিন