রংপুরে মিনু খুনের পর সেই বাড়িতে মাসব্যাপি চুরি, মাদকের আড্ডা!

রংপুর নগরীর মুলাটোলে একটি বাড়িতে মাসব্যাপি চুরি ঘটনা ঘটেছে। মাসব্যপি চুরি ছাড়াও দুর্বৃত্তরা সেখানে একাধিকবার পিকনিক ও নিয়মিত মাদকের আসর বসাতো। এর আগে ওই বাড়িতে একটি খুনের ঘটনাও ঘটেছে।

গত ১৯ মে ওই বাড়ি থেকে পুলিশ হত্যাকান্ডের শিকার আরজুমান বানু মিনুর (৬৫) মরদেহ উদ্ধার করেছিল। তিনি রংপুর ডিসি অফিসের সাবেক হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি খুন হওয়ার সাড়ে চার মাসের মাথায় চুরির এ ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ ও পরিবারের লোকজন জানায়, নগরীর মুলাটোল হকের গলির রোকসানা বেগমের মালিকানাধীন ২৭৭ নম্বর বাসায় একাই থাকতেন তার ননদ আরজুমান বানু মিনু। তার স্বামী মমদেল হোসেনের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর ওই বাসায় একাই থাকতেন তিনি। তার একমাত্র মেয়ে তানিয়া মাহজাবিন সুমিরও বিয়ে হয়েছে।

এই অবস্থায় গত ১৯ মে ওই বাড়ি থেকে থেকে বৃদ্ধা মিনুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার জামাই এনায়েত হোসেন মোহন বাদি হয়ে ওইদিনই অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রথমে গৃহপরিচারিকা আছিয়া বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়। পরে মূল অভিযুক্ত আরমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গেপ্তারকৃত ওই ব্যক্তি গৃহপরিচারিকা আছিয়া বেগমের মেয়ে জামাই।

জানা গেছে, হত্যাকান্ডের পর রোকসানা বেগমের বাসাটি দেখাশুনা করতেন তার ভাগনী ফারহানা আফরোজ। তিনি গুপ্তপাড়ার বাসা থেকে মাঝেমধ্যে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখাশুনা করতেন। এই অবস্থায় দুর্বৃত্তরা হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়া বাড়িতে পরিকল্পিত চুরির ঘটনা ঘটায়। চুরির ঘটনায় থানায় পৃথক একটি মামলা হয়েছে।

ওই মামলায় বলা হয়, গত ২৫ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত দফায় দফায় ওই বাড়িতে চুরি সংঘটিত হয়। এসময় বাড়ির দরজা ভেঙ্গে ফ্রিজ, পানির পাম্প, সিলিং ফ্যান, স্টান্ড ফ্যান, টিভি, ডিনার সেট, বাসনপত্র, আইপিএস, গ্যাসের চুলা, সিলিন্ডার ও ম্যাজিক চুলাসহ সব কিছুই চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়। মাসব্যাপি এই চুরির সময়ে দুর্বৃত্তরা সেখানে একাধিকবার পিকনিক ছাড়াও নিয়মিত মাদকসেবন করতো।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ওসি আব্দুল রশিদ জানান, ওই বাড়িতে খুন হওয়ার পর বাড়িটি যাকে দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তার যাতায়াত সেখানে কম ছিল। এই সুযোগে সেখানে চুরিটি সংঘটিত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এইচএ/রাতদিন