https://ratdin.news
শেকড়ের খবর সবার আগে...

‘জলে’ ভাসছে জলঢাকা

কুমিল্লায় ঘুমন্ত ১৩ শ্রমিকের প্রাণ নিল ট্রাক

কুমিল্লা থেকে নীলফামারী। দূরত্ব প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার। দূরের ওই জেলার চৌদ্দগ্রামে ভোরে ঘটেছে দুর্ঘটনা। কিন্তু তার শোক যেন সাথে সাথেই আঁছড়ে পড়েছে, উত্তরাঞ্চলের জলঢাকায়।

এই জলঢাকা শুক্রবার যেন ভেসে গেল ‘চোখের জলে’। এই জল শুধু স্বজন হারানোদের নয়। প্রতিবেশি-উপজেলাবাসীরও অনেকের। শোক ছড়িয়েছে পুরো জেলাজুড়ে।

কারণ? কারণটা অন্য কিছু নয়। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ইটভাটায় কয়লাভর্তি ট্রাক উল্টে যে ১৩ শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন তাদের সবারই বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকায়। পরিবারের মুখে হাসি ফোঁটাতে তারা গিয়েছিলেন সেখানে কাজ করতে।

জানা গেছে, শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারি ভোরে চৌদ্দগ্রামের গোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুরের একটি ইটভাটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কয়লা ভর্তি ট্রাকটি উল্টে পাশে থাকা শ্রমিকদের শোবার ঘরে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে অপর এক শ্রমিক মারা যান। এসময় তাদের সকলেই ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখানে ঘুমিয়ে থাকা অপর দুই শ্রমিক চিকিৎসাধীন আছেন।

নীলফামারীতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিহত ১৩ শ্রমিকের বাড়ি জেলার জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ ও শিমুলবাড়ি ইউনিয়নে।

জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘নিহত ১৩ শ্রমিকদের গ্রামের বাড়ির ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া গেছে’।

এদিকে মীরগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুকুম আলী জানান, তার ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের ৯ শ্রমিক নিহত হয়েছে চৌদ্দগ্রামের দুর্ঘটনায়।

অপরদিকে শিমুলবাড়ি ইউনিয়নে ঘুঘুমারী গ্রামের চার শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুল ইসলাম।

নিহতরা হলেন মো. সেলিম (২৮), কনক চন্দ্র রায় (৩৫), মো. মোরসালিন (১৮), রনজিত চন্দ্র রায় (৩০), বিকাশ চন্দ্র রায় (২৮), মৃণাল চন্দ্র রায় (২১), অমৃত চন্দ্র রায় (২০), দীপু চন্দ্র রায় (১৯), শঙ্কর চন্দ্র রায় (২২), মনোরঞ্জন চন্দ্র রায় (১৯), মো. বিপ্লব (১৯), তরুণ চন্দ্র রায় (২৫) ও মো. মাসুম (১৮)।

জলঢাকার ওই দুটি ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোরের দুর্ঘটনার খবর মুর্হুতেই চলে আসে নিহতদের গ্রামে। সাথে সাথেই কান্নার রোল পড়ে তাদের পরিবারের। এক সময় কান্না ছাপিয়ে যায় গ্রাম থেকে গ্রামে। খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের গ্রামে আসতে শুরু করেন হাজারো মানুষ। খোঁজ খবর নিতে আসেন জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের লোকজন।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিণ বলেন, ‘এ দুর্ঘটনায় আমরা সকলেই শোকাহত। নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা করা হবে’।

এইচএ/২৫.০১.১৯

ভালো লাগলে লাইক দিন, শেয়ার করুন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে