মুসলিম বিদ্বেষ-ঘৃণা ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যই ক্রাইস্টচার্চ হামলার মুল কারণ

ব্রেন্টন টারান্ট। বয়স ২৮। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে নির্বিচারে গুলি করে ৪৯ মুসল্লী হত্যাকারীদের একজন। হামলার কিছুক্ষন আগে এই অষ্ট্রেলিয় নাগরিক ৩৭ পাতার একটি ইস্তেহার প্রকাশ করে। ইস্তেহারের প্রতিটি লাইনে ছিল প্রচন্ড মুসলিম বিদ্বেষ, ঘৃণা আর শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের চরম মতাদর্শের কথা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ১৬,৫০০ শব্দের ওই ইস্তেহার ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’ নাম দিয়ে প্রকাশ করে টারান্ট। সেখানে ‘নতুন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে পদক্ষেপ’ গ্রহনের কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থীদেরকেই পৃথিবী জুড়ে সমস্ত সঙ্কটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ফেসবুকে নিজের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে ‘অতি সম্প্রতি আমি কেবাব রিমুভালিস্টদের সঙ্গে খণ্ডকালীনভাবে কাজ করছি।’

কেবাব রিমুভালিস্ট হলো এক ধরনের সংগঠন বা আন্দোলন, যাদের মূলকথা হলো- ‘ইউরোপ দখল করা থেকে ইসলামকে ঠেকাও’।

ইউরোপের মাটি থেকে বিদেশিদের তাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি। ইউরোপের লক্ষ লক্ষ শ্বেতাঙ্গ মানুষকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে এই ইস্তেহারে। শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য নিয়ে একটি স্লোগানও দেওয়া হয়েছে ইস্তেহারে। বলা হয়েছে, ‘আমাদের নিজেদের মানুষদের অস্তিত্বের বিষয়টি আমাদেরকেই দেখতে হবে। কারণ, আমাদের শ্বেতাঙ্গ শিশুদের ভবিষ্যত আমাদেরই হাতে।’

প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, এই অস্ট্রেলীয় নাগরিক বেশ কিছু দিন ধরেই নিউজিল্যান্ডে বাস করছেন। কিন্তু নিউজিল্যান্ড পুলিশের সন্দেহভাজনদের তালিকায় তিনি ছিলেন না।  সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু দিন ধরে চরমপন্থী মতাদর্শের কথা প্রচার করলেও তাকে কেন নজরদারির তালিকায় রাখা হয়নি, তা নিয়ে সরব হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।

এই ভয়াবহ নাশকতার আগের মুহূর্তেও সে ছিল অস্বাভাবিক রকমের শান্ত। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্ক করে ভিতরে ঢোকার আগে সে শুরু করে লাইভ ভিডিও। আর শুরুতেই সে বলে, ‘তা হলে শুরু হয়ে যাক আজকের পার্টি।’এর পরই সে বন্দুক হাতে নিয়ে ঢুকে যায় মসজিদের ভিতরে।

টরান্টের ব্যবহৃত অস্ত্রে লেখা ছিলো বিভিন্ন বন্দুকবাজের নাম

ভিডিওতে দেখা যায়, তার বন্দুকে লেখা আছে আলেসান্দ্রে বিসনেত্তা এবং লুকা ত্রাইনির নাম। ২০১৭ সালে কানাডায় একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে ছয় নিরপরাধকে হত্যা করেছিল আলেসান্দ্রে বিসনেত্তা। ২০১৮ সালে ইতালিতে আসা শরণার্থী আফ্রিকানদের উপর গুলি চালিয়েছিল লুকা ত্রাইনি।এর থেকেই স্পষ্ট, কৃষ্ণাঙ্গ এবং মুসলিম বিদ্বেষই  ছিল এই শ্বেতাঙ্গ বন্দুকবাজের মতাদর্শের মূল কথা।

মুসলিম ও কৃষ্ণাঙ্গ বিরোধী ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হলেও কোনও দলের সঙ্গে সে যুক্ত নয়, এমনটাই জানানো হয়েছে তার ইস্তাহারে। এমনকি নিজের কাজের জন্য তার কোনও অনুশোচনা থাকবে না বলেও জানিয়েছে এই বন্দুকবাজ।

আরআই/রাতদিন

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন