রংপুরের চার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বনানীর আগুন

আনজির সিদ্দিক আবির : রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছেন লালমনিরহাটের  পাটগ্রাম পৌরসভার কলেজ পাড়া এলাকার আনজির সিদ্দিক আবির (২৪)। তিনি পাথর ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিক বাচ্চুর ছেলে।

এর আগে অগ্নিকান্ড শুরুর পর থেকে নিঁখোজ ছিলেন নিহত আবির। পরে ওই ভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যুর খবর পায় পরিবার।

আনজির সিদ্দিক আবির ওই ভবনের ১৪ তলায় থাকা মিকা সিকিউরিটিজ লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ছিলেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবির ছিল ছোট।

জানা গেছে, নিহত আবির সর্বশেষ বাড়িতে এসেছিলেন গত ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে। তিনি এসময় তার চাচাতো ভাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন লিপুর হয়ে নির্বাচন করতে বাড়িতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।

আনজির সিদ্দিক আবিরের মা তাসরিফা খানম পাটগ্রামের একট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

শুক্রবার, ২৯ মার্চ বিকেলে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় গ্রামের বাড়িতে। তার মৃত্যুতে পাটগ্রাম জুড়ে বইছে শোকের ছোয়া।

আবিরের জানাজায় মানুষের ঢল… এই লিংকে

মোস্তাফিজুর রহমান : অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের একজন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কাংগুরপাড়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রশীদ মুন্সী ও আয়শা খাতুন দম্পতির ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান।

৫ বছর বয়সী এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মতিঝিলের টিকাটুলীতে বসবাস করতেন মোস্তাফিজুর। তিনি ওই ভবনের অষ্টম তলায় থাকা ‘এম্পায়ার এব্রোসিভ ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ছোট ভাই প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক ও দুই বোন ফাহিমা এবং রহিমাকে ফোন করে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর। পরে রাতে সিএমএইচে মোস্তাফিজুরের মরদেহ শনাক্ত করে পরিবারের লোকজন।

আরও পড়ুন…

আব্দুল্লাহ আল মামুন : রাজধানীর বনানীতে বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মামুনের (৪৫) বাড়ি দিনাজপুর শহরের বালুয়াডাঙ্গায় অন্ধ হাফেজ মোড় এলাকায়। তিনি ওই এলাকার প্রয়াত আবুল কাশেমের ছেলে।

নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুন বনানীর এফআর টাওয়ারে হেরিটেজ এয়ার লাইন্সে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক।



বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আব্দুল্লাহ আল মামুনের মৃত্যুর খবর তার বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় ছেলের মৃত্যুর খবরে মামুনের মা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

নিহত মামুনের বড় ভাই মোশাররফ হোসেন জানান, বনানীর এফ আর টাওয়ারের ১৩ তলায় হেরিটেজ এয়ার লাইন্সের অফিস। অগ্নিকাণ্ডের পর পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে মামুন আতঙ্কে ভবনের পাইপ বেয়ে নামার সময় নবম তোলায় এসে পড়ে যায়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার, ২৯ মার্চ গ্রামের বাড়ি জেলার বিরল উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের মীরা বোনপাড়ায় প্রথম ও বালুয়াডাঙ্গা মদিনা মসজিদ ঈদগাঁ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে ফরিদপুর গোরস্থানে বাবার কবরের পাশে তার মরদেহ দাফনের কথা জানিয়েছে পরিবার।

রুমকি আক্তার : অগ্নিকাণ্ডে আগুনে পুড়ে মারা গেছেন রুমকি আক্তার। আর তার স্বামী আগুন থেকে বাঁচতে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে নিহত হয়েছেন।

নিহত মাকসুদুর রহমানের খালাতো ভাই ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বনানীর ওই ভবনের ১০ অথবা ১১ তলায় একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে  মাকসুদুর ও রুমকি চাকুরি করতো। আগুন লাগার কিছুক্ষণ পরই মাকসুদুর লাফিয়ে পড়ে মারা যান। আর তার স্ত্রী রুমকি নিখোঁজ ছিলেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রুমকির লাশ পাওয়া গেছে।

নিহত রুমকি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার আশরাফ আলীর মেয়ে। মাকসুদ-রুমকি দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না। তারা রাজধানীর গেন্ডারিয়ার আলমগঞ্জ এলাকায় নিজ বাড়িতে থাকতেন। আর তার স্বামীর বাড়ি রাজধানীর পুরান ঢাকায়।

এবি/রাতদিন

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন