রংপুর শহর ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’, বায়ু দূষণের মানমাত্রায় ‘ভয়াবহ’

বায়ু দূষণের মানমাত্রায় ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থানে রয়েছে রংপুর। গত শনিবার, ২০ মার্চ এ তথ্য জানায় পরিবেশ অধিদফতরের বায়ুমান মনিটরিং স্টেশন (সিএএমএস)।

সিএএমএস জানায়, দেশের বিভিন্ন শহরের মধ্যে বায়ুমান শূন্য থেকে ৫০ পিএম থাকলে সেটাকে বিশুদ্ধ বায়ু বলা হয়। ৫১ থেকে ১০০ মোটামুটি, ১০১ থেকে ১৫০ সর্তকতামূলক, ১৫১ থেকে ২০০ মোটামুটি অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর। আর  ৩০১ থেকে ৫০০ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচনা করা হয়। দূষক প্যারামিটার পিএম ২ দশমিক ৫ ধরে এ হিসাব করা হয়। রংপুরে ৪২৭ পিএম হওয়ায় ভয়াবহ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা ছাড়িয়েছে বিভাগীয় শহর রংপুরে। বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহৃত উপকরণ মূলত এর জন্য দায়ী। বায়ু দূষণের ফলে মানুষের শ্বাসযন্ত্র, হৃদরোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিস বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়। বায়ু দূষণ মাতৃগর্ভে ভ্রুণের ক্ষতিসাধনসহ শিশুর বুদ্ধিমত্তা বিকাশ ব্যাহত করে। তবে বায়ু দূষণের এ মাত্রা বর্ষা মৌসুমে অনেকটা কমবে বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিবেশ অধিদফতর রংপুরের উপপরিচালক মেজ-বাবুল আলম বলেন, ‘শহরের সর্বত্র সড়ক ও বিভিন্ন আবাসন নির্মাণ কাজ চলছে। রাস্তার ধারে ইট, পাথর, বালু স্তূপ করে এসব নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। ফলে ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলাবালি উড়ে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি করছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সকলকে সচেতন হতে হবে।’

রংপুর আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘প্রতিনিয়ত আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। হঠাৎ করেই তাপমাত্রা বাড়ছে বা কমছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের অন্যতম কারণ পরিবেশ দূষণ। আর এ দূষণ হচ্ছে মূলত মানুষের অসচেতনতার কারণে। বিশেষ করে রংপুরের বায়ু দূষণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ মানুষের সৃষ্ট বিভিন্ন কাজ।’

রংপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহাবুবার রহমান মঞ্জু বলেন, ‘নগরীতে বাড়ি-ঘর নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী রাস্তায় ড্রেনের পাশে ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে ড্রেন ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাষণ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের মাত্রা বাড়ছে।’

এইচএ/রাতদিন

মতামত দিন