বেশ কয়েকটি অভিযানে ‘সফল’ রংপুর মহানগর পুলিশ

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে রংপুর মহানগর বা মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়। যাত্রা শুরুর পর থেকে আরপিএমপি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সুন্দর রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে চাঞ্চল্যকর বেশ কয়েকটি মামলায় আসামীদের গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর এসব অভিযানকে নিজেদের সফলতা হিসেবে দেখছে মহানগর পুলিশ।

মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়ে নিজেদের বেশকিছু সাফল্যের তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল আলীম মাহমুদ বিপিএম।

তিনি জানান, সম্প্রতি রংপুর মহানগরীর পায়রা চত্বর এলাকা থেকে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ব্যবহৃত হিরো হোন্ডা গøামার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানায় মামলা হলে আরপিএমপি’র অপরাধ বিভাগ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চোর আব্দুল কাইয়ুম শেখ ওরফে কাউস ওরুফে লিটনকে (৪০) গ্রেফতার করে।

পরে কাইয়ুমের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় অভিযান চালানো হয়। এতে নির্বাচন কর্মকর্তার চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলটিসহ ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল, ডিজিটাল নম্বর প্লেট এবং নম্বর প্লেট পরিবর্তনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। কাইয়ুমের বিরুদ্ধে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, দিনাজপুরের ফুলবাড়ি এবং রংপুর কোতয়ালী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, চলতি মাসে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মুক্তারা বেগমকে অপহরণ করে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি চক্র। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পরই পুলিশ মুক্তারা বেগমকে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে কাউনিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়।
পাশাপাশি অপহরণকারী চক্রের সদস্য শহিদুল ইসলাম ওরুফে সুমন ওরুফে সাজুলকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি এবং রংপুর কোতয়ালী থানায় তিনটি মামলা রয়েছে।

আবদুল আলীম আরো বলেন, রংপুরে হারাগাছে দশম শ্রেণী পড়–য়া এক স্কুল ছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ধর্ষণ করায় ধর্ষক রাসেল মিয়া এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করায় মুক্তারুল রানা নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষক রাসেল মিয়া রংপুর মহানগরীর ঢাকা আবাসিক হোটেলে ওই স্কুল ছাত্রীকে দুই দফায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। রাসেল অনেক মেয়েকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও নগ্ন ছবি- ভিডিও ধারণ করে অবৈধভাবে অনেক টাকা আদায় করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আরপিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. মহিদুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মোছা. শামীমা পারভীন।

ছিলেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) আব্দুল্লাহ্ আল ফারুক, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহিদুল্লাহ্ কাওছার পিপিএম, সিনিয়র সহকারি পুলিশ কমিশনার (পরশুরাম জোন) শেখ মো. জিন্নাহ আল মামুন ও সহকারি পুলিশ কমিশনার (স্টাফ অফিসার) আল ইমরান হোসেন।

এছাড়াও সেখানে ছিলেন সহকারি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক দক্ষিণ) নাজরান রউফ, সহকারি পুলিশ কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) রেজানুর বেগম, সহকারি পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আলতাব হোসেন, কোতয়ালী থানার ওসি রেজাউল করিম প্রমুখ।

এইচএ/রাতদিন

লাইক দিয়ে সাথে থাকুন