গভীর শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় রংপুরে শহীদদের স্মরণ

মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের ৫০তম দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গভীর বেদনা ও পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করে রংপুরে পালিত হচ্ছে বিজয় দিবস। অগণিত মানুষের শ্রদ্বা ও ভালোবাসার ফুলে ভরে উঠেছে স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনারসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভসমূহ। যদিও করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয়েছে সবখানেই।

বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর সূযোর্দয়ের সাথে রংপুর পুলিশ লাইন্স মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের শুভ সূচনা করা হয়।

কুয়াশামাখা ভোর থেকে সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনে উড়তে থাকে জাতীয় পতাকা।

সকালে রংপুর সার্কিট হাউসে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনসহ পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় নগরের মডার্ণ মোড়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ‘অর্জন’ এ শহীদদের সম্মানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও স্বশস্ত্র সালাম প্রদান করা হয়। এতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল ওয়াহাব ভূঞা, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল আলীম মাহমুদ, রংপুর জেলা প্রশাসক মোঃ আসিব আহসান, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার প্রমুখ।

এছাড়াও বিভাগীয়, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ জিলা স্কুল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ও কালেক্টও সুরভি উদ্যানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা সম্বলিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সশস্ত্র সালাম জানান।

এদিকে সকালে প্রশাসনের পাশাপাশি রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (রসিক) মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নেতৃত্বে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, অর্জন এবং সুরভি উদ্যানে নির্মিত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে রসিকের সকল কাউন্সিলর, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা। দুপুরে সিটি কর্পোরেশন ভবনে শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জাসদ, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সরকারি বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরাসহ সর্বস্তরের জনগণ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় সংসদের বিরোধি দলীয় চিফ হুইপ ও রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রাহগীর আল-মাহি সাদ এরশাদ, মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, জেলা আওয়ামী লীগের জেলা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সফিউর রহমান সাফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল, রংপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল সালাম, ছাত্রদল সভাপতি, সেক্রেটারীসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এবার শ্রদ্ধা নিবেদনে কোনো সময় নির্ধারণ না হওয়াতে ভোর থেকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসতে থাকে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। বিকেলেও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনে আসা মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

এছাড়াও জেলার সকল মসজিদ, মন্দিরসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা এবং দুপুরে হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, ডে-কেয়ার ও শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে জেলা প্রশাসন।

সন্ধ্যা সাতটায় রয়েছে ‘জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠান।

জেএম/রাতদিন