গাইবান্ধায় সেতুর টোল আদায় বন্ধের দাবি এলাকাবাসীর

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বড়দহ সেতুর টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ-গাইবান্ধা সড়কের কাটাখালী নদীর বড়দহ সেতুর ওপর আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।  

সমাবেশে বড়দহ সেতু টোল মওকুফ ও মহাসড়ক বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন বিপ্লব বলেন, বড়দহ সেতুর ওপর দিয়ে দৈনিক হাজার হাজার মানুষ উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করে। ১৯৯৭ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হলেও তিন ধাপে মোট ১৮ বছরে এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে ১৪৮ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু নির্মাণে কাজ শুরু হলেও তিনটি স্প্যান নির্মাণের পর অনিবার্য কারণে ১১ বছর কাজ বন্ধ থাকে। নদী ভাঙনের কারণে পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় ২০০৭ সালে নির্মাণ কাজের লক্ষ্যমাত্রা ৯১ মিটার বেড়ে যায়। ২০০৭ সালে সেতুটির কাজ শুরু হয়ে একটি স্প্যান নির্মাণ হওয়ার পর অজ্ঞাত কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় সেতুটির কাজ সম্পন্ন করার জন্য পুনরায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিলে নির্মাণ কাজটি ২০১৫ সালে সম্পন্ন হয়। ২০১৫ সালের ২০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটি উদ্বোধন করেন।

তিনি আরও বলেন, তৃতীয় দফা নদী ভাঙনের ফলে চূড়ান্ত নির্মাণ কাজ শেষ করতে সেতুটির দৈর্ঘ্য বেড়ে দাঁড়ায় ২৫৩.৫৬ মিটার। কিন্তু ২০১৫ সালে প্রণীত সেতুর নিতিমালা অনুযায়ী সেতুটির ওপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ টোল আরোপ করলে তা ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর এক পত্রের মাধ্যমে মওকুফ করা হয়।  কিন্তু এ বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে উচ্চ হারে টোল ধার্য করা হয়েছে।  

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহরুল ইসলাম বলেন, এলাকার গরিব-দুঃখী, বানভাসি ও খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে সেতুতে টোল দিয়ে চলা কষ্টসাধ্য। অবিলম্বে বড়দহ সেতুর টোল আদায় বন্ধের জোর দাবি জানাই। 

এ সময় হরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ কবির, সাধারণ সম্পাদক শাজাহান আলী, রফিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম,আসাদুল ইসলাম লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এনএ/রাতদিন